নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপর্যাপ্ত ডাস্টবিনের কারণে সড়ক ও ফুটপাতে আবর্জনার স্তূপ

চকরিয়া পৌরসভার অলিগলি যেন ময়লার ভাগাড়, উৎকট গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:১৮ , আপডেট: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:১৯

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


এম. মনছুর আলম, চকরিয়া;

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার অলিগলিতে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ গড়ে ওঠায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব ও পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় সড়ক ও ফুটপাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনায় স্থবির হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে কার্যত এটি এখন তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভার মতো অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, তদারকির অভাব ও কার্যকরভাবে ময়লা অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পচে যাওয়া ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। এতে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও দোকানপাটের বর্জ্য সময়মতো অপসারণ না করা এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা না ফেলার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, পৌরসভা থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ময়লা সংগ্রহ ও অপসারণ করা হলে অলিগলিতে এভাবে দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণু ছড়াত না।

সড়ক ও ফুটপাতে জমে থাকা বর্জ্যের ফলে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও প্রতিদিন চরম আকার ধারণ করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চকরিয়া পৌরশহরের বালিকা বিদ্যালয়ের রাস্তার মাথা, বাঁশঘাটা রোডের রাস্তার মাথা, চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তার মাথা, বালিকা বিদ্যালয়ের গেটের পাশে, চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়ক, বায়তুশ শরফ রোড, সবুজবাগ এলাকা, ফুলতলা রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থান কোনো নির্ধারিত ডাম্পিং স্পট নয়। এরপরও সেখানে অবাধে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ময়লার স্তূপের কারণে এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবও বেড়েছে। এসব কুকুর অনেক সময় মানুষকে আক্রমণ করছে। সড়কে চলাচলকারী নারী, পুরুষ, শিক্ষার্থী ও শিশুদের তাড়া করার ঘটনাও ঘটছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তারা।

স্থানীয়রা আরও বলেন, দুর্গন্ধের কারণে ঘরের দরজা-জানালা প্রায় সারাক্ষণ বন্ধ রাখতে হয়। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। ময়লা ফেলতে বাধা দিলে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনায় রূপ নিতে পারে।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী ওইসব স্থানে স্থায়ীভাবে ময়লা ফেলা বন্ধের পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ভাসমান দোকান উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এসব দোকানের কারণে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুশ শরফ রোডের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, “পৌরশহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি বায়তুশ শরফ রোড। প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু ছালেহ আহমদ সওদাগরের বাড়ির গেটের পাশে আশপাশের বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলে বড় স্তূপে পরিণত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন শত শত মুসল্লি, বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। ময়লার স্তূপ থেকে ছড়ানো উৎকট দুর্গন্ধে মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার মাঝখানে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা এই ময়লার ভাগাড় এখন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে পৌরশহরের অলিগলিতে যত্রতত্র পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে চকরিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, “ময়লা-আবর্জনা অপসারণের জন্য পৌরসভায় যে দুটি গাড়ি ছিল, সেগুলো কিছুদিন ধরে নষ্ট হয়ে বিকল হয়ে আছে। এ কারণে ময়লাগুলো পড়ে রয়েছে। গাড়ি নষ্ট না হলে ময়লাগুলো কখনো রাস্তায় পড়ে থাকত না।”

তিনি আরও বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ব্যবস্থায় হলেও ময়লা-আবর্জনাগুলো অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”